goo blog サービス終了のお知らせ 

THE POEMS OF ARSHAD ULLAH IN BENGALI

PLEASE READ MY POEMS AND OTHER WRITINGS

আমার ভাবনাগুলি

2019-10-02 17:45:53 | poem
হৃদরোগ
Myocardial infarction
আরশাদ উল্লাহ্‌

আমার বন্ধু মহলের প্রায় সবাই জানেন যে কয়েকবার মারাত্মক অসুস্থ হয়ে এম্বুলেন্সে বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালের অতিথি হয়েছি। ছাত্র জীবন থেকেই আমি একজন ক্রনিক হৃদরোগী। আমরা সবাই রোগমুক্ত থাকতে চাই। তা সম্ভব হয় না। প্রতিটি লোক জীবনে একাধিকবার রোগে আক্রান্ত হন। সে রকম আমিও একজন। এটা আমাদের সবার নিয়তি। তবে রোগের একটা সীমাবদ্ধতা থাকা দরকার। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রে সে সীমাবদ্ধতাও থাকে না। আমি ক্রনিক হৃদরোগী। মাঝে মাঝে নিজেকে ধিক্কার দেই। কিন্তু যখন আমার চেয়েও আরো বেশি রোগাক্রান্ত লোক ও প্রতিবন্ধীদের দেখি - তখন নিজেকে প্রবোধ দেই।

ছাত্রজীবনে আমার হৃদকম্প (Atrial fibrillation) ছিল। বয়স কম ছিল বলে বড় বেশি পাত্তা দেই নি। কিন্তু আমার মা জননি ও বড় ভাই বোনেরা আমার জন্য চিন্তিত থাকতেন। ডাক্তার বদলিয়ে অন্য ডাক্তারের নিকট নিয়ে যেতেন। তখন পাকিস্তান আমল। ডাক্তারগণ ছিলেন সিরিয়াস। ব্যতিক্রম যে ছিলনা তা নয়। তবে সিরিয়াস ডাক্তারের সংখ্যা সে আমলে বেশি ছিল। যাদের নিজ চোখে দেখেছি। তারা রোগীর পকেটে কত টাকা আছে জিজ্ঞাসা করতেন না। রোগ ধরার জন্য উঠে পড়ে লাগতেন। সেই আমল থেকে বর্তমান জমানার তফাৎ ৫০ বছর। এখন বিজ্ঞানের বদৌলতে অনেক উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা রয়েছে। উন্নত দেশগুলিতে অর্গান ট্রান্‌স্প্লান্ট ও করা হয়।

আজকের লেখায় আমার হৃদরোগের সাথে অব্যাহত যুদ্ধ করে যাওয়ার কথা কিছু বলব। এ লেখা পড়ে অনেকে উপকৃত হবেন আশা করি।
হৃদরোগ অনেক প্রকার। আমার হার্টের রোগটা যখন দেখা দেয়, তখন "অস্বাভাবিক হার্ট বিট" - কখনো দ্রুত, কখনো থেমে থেমে হত। ১৯৭০ এর দশকে উন্নত ঔষধ ও চিকিৎসা যে ছিলনা তা বলাই বাহুল্য। আমার রোগ দেখা দেওয়ার পর এম বি বি এস বা এল এম এফ পাশ নয়, অথচ অত্যন্ত জনপ্রীয় একজন ডাক্তারের নিকট গেলাম। তাঁর নাম ছিল বিনয় ভূষণ দেব। বৃদ্ধ ডাক্তার। তিনি আমার পূর্ব পরিচিত ডাক্তার ছিলেন। যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন সর্দি বা এলার্জি হলে তাঁর নিকট যেতাম।

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর চট্রগ্রামে তাঁর ক্লিনিক খুঁজে পেলাম। কোন ব্লাড টেস্ট, এক্স-রে ছাড়াই আমার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনে মাত্র একটি টেবলেট দিলেন। সেটা সেবন করে কয়েক বছর ভাল ছিলাম। ইতিমধ্যে এই ডাক্তার মৃত্যু বরণ করেছেন। বলাই বাহুল্য যে আমার এই রোগের কথা ঘরের সদস্যরা ছাড়া কেউ জানত না। আমিও কাউকে বলতাম না। পড়াশুনা, খেলাধুলাও করতাম। ১৯৮০ সালে জাপানে আসার আগ পর্যন্ত কোন ডাক্তার আমার রোগ নির্নয় করতে পারেন নি এবং আমাকে কোনদিন বলেন নি যে তোমার হৃদরোগ।

১৯৮০ সালে পি এইচ ডি প্রোগ্রামে জাপান আসার পর আমার রোগের কথা বেমালুম ভুলে গেলাম। আমার অসুস্থতার কথা কোনদিন আমার টীচারকেও বলি নি। কারণ, জীবনের নিকট পরাজয় মেনে নিতে চাইনি আমি। ১৯৮৪ সালে পি এইচ ডি ডিগ্রী অর্জন করার পর দু'বছর গবেষোণাগারে চাকুরিরত ছিলাম।

১৯৮৬ সালে প্রথম বড় ধরণের হার্ট এটাক হল। কিন্তু ব্যথা নেই। ভোর ৪টা বাজে। প্রথমে স্ত্রীকে নিদ্রা থেকে জাগাই নি। ভেবেছি কিছুক্ষণ পর হার্ট-বীট নরম্যাল অবস্থায় ফিরবে। কিন্তু আধা ঘন্টাতেও ফিরলনা দেখে স্ত্রীকে এম্বুলেন্স ডাকতে বললাম।

ইমার্জেন্সি ওয়ার্ডে ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন, Atrial fibrillation. তারপর ৬ দিন হাসপাতালে আই সি ইউ তে ছিলাম। কোন ওপারেশন হয়নি। তবে সব ব্যবস্থাই রেডি ছিল। ছয় দিনের দিন ডাক্তার ঔষধ দিয়ে আমাকে রিলিজ অর্ডার দিলেন। তারপর ২০১২ সালে নিউমোনিয়া হয়েছিল। আর, গত জুলাইয়ের ২৮ তারিখ রাতে ৩২ বতসর পরে আবার হার্ট এটাক হল। এবার সর্ব প্রথম হার্টে ব্যথা অনুভব করলাম। রাত ২টায় হাসপাতালে এম্বু‌লেন্সে গেলাম। ডাক্তার পরীক্ষা করে বললেন, Myocardial infraction, অবাক হলাম, এতদিন চিকতসা চলছিল Atrial fibrillation এর। এখন আমি ভিন্ন জাতের হার্টের রোগী। পুর্বে 'ব্লগ' কথাটি উল্লেখ করেছিলাম। কিন্তু তা নয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর নতুন ডাক্তার পরীষ্কার করে বুঝিয়ে দিলেন 'ব্লগ' নয়, Myocardial infarction.!
পাঁচটি ব্লগের কথা উল্লেখ করেছিলাম। ২৮ জুলাই ডাক্তার সহজ ভাষাতে ব্লগ বলেছিলেন। ( হ্যাঁ, এটাকেও এক ধরণের ব্লগ বলা যেতে পারে।)

Myocardial infarction কি ধরণের হার্টের রোগ এ ব্যাপারে সামান্য ধারণা দিতে চাই। হার্টের অনেক আর্টারি, ভেইন রয়েছে। সেগুলিতে রক্ত সঞ্চালন হয় এবং হার্টকে সুস্থ রাখে। কোন কারণ বশত যদি সেগুলিতে রক্ত সঞ্চালনের ব্যাঘাত হয় তখন ব্যথা শুরু হয় এবং এই রোগে আক্রান্ত হয়। প্রথমে কম ব্যথা হয়। পরে আস্তে আস্তে বাড়ে। বিশ্রাম নিলে কমে যায়। (আমার বেলাতে প্রথম অবস্থায় এমন হয়েছিল।)

২৮ জুলাই রাতে ব্যথা কমেনি বরং ক্রমাগতভাবে বাড়ছিল। তাই রাত ২টায় হাসপাতালে ভর্তি হলাম। এদেশের হাসপাতালে ডাক্তার এবং নার্সগণ সৈনিকের মত প্রস্তুত থাকে। রোগী যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিলম্ব না করে রোগী নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে থাকে।
পরীক্ষা শেষে ১১ দিন হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল। কোন রিং সেট করেনি। তার ঢুকিয়ে জ্যাম হয়ে যাওয়া আর্টারিগুলিটে বিশেষ ঔষধ স্প্রেকরে পরীষ্কার করে দিলেন ।

জ্যাম হয়ে যাওয়া আর্টারি বা ধমনি যথাশীঘ্র পরীষ্কার না করলে এবং রক্ত সঞ্চালিত না হলে খোদ হার্টের টিস্যু মরে যায়। এমন অবস্থা হলে পরিত্রাণের কোন উপায় থাকে না।

২০১৫ পর্যন্ত আমেরিকাতে ১৫.৯ মিলিয়ন লোক এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে এবং বছরে ১০ লক্ষ লোক আক্রান্ত হয়।

আমেরিকার এক পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে যে মহিলারা ৬৫ বৎসর এবং পুরুষেরা ৪৫ বৎসর বয়সের পর Myocardial infarction রোগে আক্রান্ত হয়। এই ব্যবধানের কারণ জানা যায় নি। তবে এই রোগ অতিরিক্ত মদ্যপানে, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস,অতিভোজন ও তৈলাক্তজাত খাবার বেশি খেলে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মধ্য বয়স্ক লোক, যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন এবং গড়ে এক ঘন্টা সকাল বিকাল হাঁটাহাঁটি করেন - তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম।

দীর্ঘকাল রোগাক্রান্ত থেকেও বিশেষ করে হৃদরোগ নিয়ে কি করে এখনো বেঁচে আছি? নিজেই বার বার নিজেকে প্রশ্ন করি। লেখাপড়ার পর্ব এই রোগ নিয়ে করেছি। কষ্ট হয়েছে। কিন্তু টীচারকে বুঝতেও দেই নি।
যারা হৃদরোগে আক্রান্ত তাদেরকে নিজস্ব অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ দিতে চাই। হয়তো আমার পরামর্শে তারা উপকৃত হবেন।

১। শুধু মাত্র ডাক্তার ও ঔষধ সেবনে সুস্থ থাকা যায় না। নিজেকেও সচেতন থাকতে হবে। দুর্ভাবনা না করে ডায়েরি লিখা, বই পড়া, গল্প লেখা, গান গাওয়া বা প্রিয় গায়কের গান শোনা, প্রিয় জনের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা, ভালবাসা বজায় রাখা, শিশুদের আদর করা ও তাদের সাথে খেলাধুলা করা, ভাল ও সুন্দর মনের মানুষের সাথে অকৃত্রিম বন্ধুত্ব স্থাপন করা। বন্ধুদের সাথে কথা বলে মানসিক ক্লান্তি সারানো যায়।

২। ব্যায়াম করা, হালকা ব্যায়াম, হালকা খাবার, মিষ্টি কম খাওয়া, সবজি ও মাছ বেশি খাওয়া। ছোট মাছ খাওয়া; পুটি শুঁটকি জাতীয় ছোট মাছের শুঁটকি সবজির সাথে রান্না করে খাওয়া। সকালে ২ গ্লাস পানি পান করা। ঘুমাবার পূর্বেও এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খাওয়া।

৩। পশু পাখিকে ভালবাসা এবং যত্নের সাথে পোষা। ছাগল, কুকুর, বিড়াল এবং মুরগি পালন করা। এগুলি কেন করতে হবে ভেবে দেখুন। মনে রাখবেন যারা সারাক্ষণ রোগের চিন্তা করেন তারা বেশিদিন বাঁচেন না। এই পোশা পশু পাখি আপনাকে ব্যস্ত রাখবে এবং মানসিক ক্লান্তি কমে যাবে।

৪। নামাজ পড়া। অন্তত এশার নামাজ নিবিষ্ট মনে পড়লে রোগের উপশম হবে। দুর্ভাবনা কমে যাবে এবং ভাল ঘুম হবে।

পৃথিবীতে সবাইকে মরতে হবে। তবে সুস্থ থেকে সবাই যাতে পূর্ণ হায়াত পেয়ে মৃত্যু বরণ করেন - এই কামনা করি।

*All rights reserved by the writer.
2 October 2019
No photo description available.

poem কবিতা

2019-09-19 19:57:06 | poem
আমার গ্রাম
আরশাদ উল্লাহ

প্রতিদিন সূর্য উঠে যখন
রাতের আঁধার সরিয়ে,
গ্রামের লোক জেগে উঠে
পাখিদের সারা পেয়ে।

শালদা নদীটি চলছে বয়ে
পূর্বের মাঠ দিয়ে,
বুড়ি নদীটি যায় ধীরে বয়ে
পশ্চিম বিল দিয়ে।

‘বুড়ি’ নাম তার হলেও কিন্তু
আসলে সে বুড়ি নয়,
যৌবনের রূপ দেখা যাবে তার
যদি শ্রাবনে প্লাবন হয়!

সেথায় আমার গ্রামটি বন্ধু
নামটি তার মকিমপুর,
আলমগীরের শহীদ মীনার
ঘর থেকে আমার নয় দূর।
অগ্রাণে এসে ঝাঁকে ঝাঁকে বক
পশ্চিমের বিলে বসে,
পোষা হাঁসেরা এগিয়ে গিয়ে
স্বাগত জানিয়ে আসে।

শত শত বকে সাদা হয়ে যায়
মকিমপরের বিল,
মূক্তার মতো ধূপ-সাদা হয়ে
করে ঝিলমিল।
পুর্ব-পশ্চিম - উত্তর মাঠের
ধান গাছ বড় হয়ে,
স্বর্ণোজ্জ্বল রঁজন ধারণ করে
যৌবনে পড়ে ঢলে।

রূপ কথার গল্প শুনেছো কতো
দাদী নানীর মুখে,
নিজেরে তুমি হারিয়ে ফেলিবে
উত্তর মাঠের রূপ দেখে!

বাস্তবে তুমি দেখিবে তারে
যদি যাও উত্তরে,
সেথায় গিয়ে দেখিবে তুমি
দাঁড়িয়েছো স্বর্ণ প্রান্তরে।

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

poem কবিতা

2019-09-09 13:24:00 | poem

সময়ের অদলবদল
আরশাদ উল্লাহ্‌

কি যে করি - দুর্দান্ত অস্থির জগত সায়রে
এ জীবনতরী - স্থির হতে গিয়ে কোথাও-
অশিবের দুর্বিপাকে আঘাটে ধাক্কা খেয়ে
হতে পারেনি স্থির, তাই অস্বচ্ছন্দ যদিও
সময়ের প্রতাপে টালমাটাল - যাচ্ছে ধেয়ে
পথ হারিয়ে চলছে নিরুদ্দেশে অন্ধকারে।
নাস্তানাবুদ হতবুদ্ধি তবুও রয়েছে এগিয়ে
সংঘাতময় এ পৃথিবীর - জল-স্থল পথে
জন্মের পরে যুগের পর যুগ ভয়ে নির্ভয়ে।

বিশাল বট বৃক্ষ দেখে ভেবেছি পৃথিবী স্থির,
নিত্যকার অন্ধকার সরিয়ে উজ্জ্বল আলো আসে,
নরম ঘাসের ‘পরে মুক্তার মত - প্রভাত শিশির।
বায়ুতে পুস্পের ঘ্রাণ, ঝিঁঝিঁপোকার তান
আঁকাবাঁকা নদী নৌকার মাঝি গায় গান,
সূর্যাস্তের পর লাখো তারা - তিমির আকাশে।

সময়ের অদলবদল – উজ্জ্বল – অনুজ্জ্বল,
প্রকৃতির এপিঠ ওপিঠ – আঁধারে জোনাকি,
সংঘাতময় জীবন তবু মানুষেরা কর্মচঞ্চল,
জীবন এক বিস্ময়কর স্বপ্ন, বুঝার উপায় কি?
জীবন সংগ্রামে রত মানুষের দিন ফুরিয়ে যায়
মনের আড়াল থেকে, বুঝেনা কেউ বড় বিস্ময়।
মহাযুগে জীবনতরী যদি ঘাটে যায় লেগে
সূর্যের মৃত্যু হবে নির্ঘাত - পৃথিবীর আগে।

৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯

poem কবিতা

2019-09-03 14:02:04 | poem
It’s the time of sun setting
The gentle wind & rosy sky,
Oh my love, the reason is why
You’re on this beach with me,
What a wonderful evening.

Let’s forget those pains & sorrow
The birds’ babies in the nest grow.
It’s the beginning, oh my love…
Let’s us make our life colorful
Let us make the world colorful
Let us think about peace …
We are here on this sea beach
What a beautiful gloaming.

2 September 2019



আমার ভাবনাগুলি

2019-09-02 14:58:56 | Weblog
জাপানে দারিদ্রতা
(নিজস্ব মতামত)

দেরীতে হলেও গতকালের দৈনিক প্রথম আলোতে আমার আকাঙ্ক্ষিত একটি সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। শিরোনামঃ

"জাপানের সুপ্ত দারিদ্র্য: কিছু অজানা তথ্য!"

খবরটি অনেক জাপান প্রেমিকদের মনঃপীড়ার কারণ হতে পারে। ১৯৮০ সালে দেশটিতে পদার্পণ করে সর্বত্র যে নান্দনিক দৃশ্যাবলি শহরে গ্রামে, উৎসবে-পরবে, যে সামাজিক রীতিনীতি ও অর্থনীতিতে প্রগতি দেখেছি। তা ছিল আমার নিকট বড় বিস্ময়। নারী শিশু জনতার কলরব, আনন্দ উচ্ছ্বাস, ঘরে ঘরে বাবল ইকোনমির ফসল।রাতারাতি কারখানা স্থাপন। আর, ছোট একটি কারখানা রাতারাতি জায়ান্ট কারখানাতে পরিণত হওয়া । আর, সে কারখানাটিকে কেন্দ্র করে পাশাপাশি ছোট ছোট শিল্প প্রতিষ্ঠানের ফলে বুদ্বুদ অর্থনীতির উদ্ভব হয়েছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। কেন নেই? অনেকের মনে এখন অনেক প্রশ্ন।

গতকাল জাপানে শ্রমিক হিসাবে আসতে আগ্রহি একটি শিক্ষিত যুবক 'ওয়েব জিন' থেকে একটি প্রকাশিত সংবাদের লিঙ্ক দিয়ে আমার মতামত জানতে চেয়েছে। সেটা 'জাপানে শ্রমিক আনার প্রকাশিত সংবাদ।" এই যুবকটির মত আরো অনেকে আমাকে জাপানে উচ্চশিক্ষার্থে আসার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করেছে। তাদের যথাসম্ভব আমি অবগত করেছি। কিন্তু গতকাল রাতে যে যুবকটি জাপানে শ্রমিক হিসাবে আসার স্বপ্ন দেখছে। তাকে উত্তর দিলাম যে, তোমার লিঙ্কটি পড়েছি। এই ব্যাপারে পরীষ্কার ধারণা আমার নেই। আলোচনা হচ্ছে শুনেছি। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আনার ব্যাপারে কিছু জানি না। অপেক্ষা কর। পরে অবগত হয়ে জানাব।

এ কথা সত্য যে তিন বৎসর পূর্বে জাপান সরকার বিদেশ থেকে শ্রমিক আনার ব্যাপারে এবং অধিকতর বিদেশি ছাত্র জাপানে এসে পড়াশুনার জন্য একটি সার্কুলার দিয়েছিল। কিন্তু প্রথমে তাতে বাংলাদেশের নাম উল্লেখ করে নি। আমার মত পুরানো যারা বিগত তিন চার দশক জাপান প্রবাসি - তারাও একথা শুনে চোখ কপালে তুললেন।
পরে অবশ্য নাম কা ওয়াস্তে সবার শেষে বাংলাদেশের নাম সংযুক্ত করেছে।

গত পরশু এক বন্ধু জানালেন যে তার সন্তান যে কোম্পানিতে জব করছে - সেটাতে ভিয়েতনামি শ্রমিক এসেছে।
কথাটি অমূলক নয় মনে হয়েছে। প্রথম দিকে জাপান সরকার নীতি নির্ধারণ করেছিল যে চীন ও ভিয়েতনাম থেকে শ্রমিক বা ছাত্র আসার অগ্রাধিকার দিবে। কারণ কি? অনেকে ভাবতেও পারবে না যে জাপানিদের বর্ণ প্রীতির ব্যাপারটি। কারণ সেটাই। পরবর্তি পর্যায়ে
দক্ষিণ এশিয়া থেকে নেপালের নাম স্থান পেয়েছিল। দেখতে দেখতে নেপালিদের রাস্তা ঘাটে দেখতে পেলাম। তার আরো কয়েক বছর পরে আমার নিকটস্ত শহরের ল্যাঙ্গুয়েজ স্কুলে কিছু বাঙ্গালি ছাত্র দেখতে পেলাম। অবস্থার কিছু পরিবর্তন হচ্ছে আন্দাজ করলাম।
কিন্তু লক্ষ করলাম যে ল্যাঙ্গুয়েজ কোর্স শেষ করার পরে তাদের চাকুরির কোন সুযোগ নেই। অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে চাকুরির করার উপর বাধা বিপত্তি থাকা ঠিক নয়। জাপান সরকারের নীতিতে এমন ফাঁকফোকর অনেক লক্ষ করেছি।

সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থার উপরে যারা গবেষণা করেন তারা সরকারের ত্রুটিগুলি দেখতে পাচ্ছেন। কিন্তু জাপান সরকার তার পর্বত প্রমাণ ট্যাক্সের টাকা দেখে জাপানকে গরীব ভাবতে পারছেন না। দক্ষ কৃষকেরা কৃষি কাজ ছেড়ে দিচ্ছে। এ দেশের নিয়মে কৃষকের জ্যেষ্ঠ পুত্র - তার পিতা বৃদ্ধ হলে সব কৃষিকাজের দায়ীত্ব নেয়। কিন্তু আজকের কৃষকের সন্তান কৃষিকাজ করতে নারাজ। তাই কৃষকের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। সে শূন্যস্থান পূর্ণ করতে বিদেশ থেকে দক্ষ শ্রমিক বা কৃষক আনলে অবস্থার পরিবর্তন হবে। জাপান সরকারের মাথায় যে এ ভাবনা নেই তা নয়। কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে জাপানিরা বেশি দেরী করে ফেলে। উল্লেখ্য যে জাপানের ৬০% জমিন অনাবাদি রয়েছে।

আজ থেকে ১০০ বৎসর পূর্বে পরিবার কেন্দ্রিক ছিল জাপানের সমাজ ব্যবস্থা। সে প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পরে একটি পরিবারে যদি চারটি সন্তান থাকে। কর্মক্ষম হয়ে তারা পিতামাতাকে ছেড়ে চলে যায়। নামকা ওয়াস্তে মাঝে মাঝে ফোনে কথা হয়। পরবর্তি পর্যায়ে ভাই বোনের মধ্যেও সম্পর্ক থাকে না। চাচাতো মামাতো ফুফাতো খালাতো ভাইবোনদের চেহারাও তারা ভুলে যায়। চল্লিশ বৎসর প্রবাসে থেকে এমন অবস্থা দেখে আসছি। সে কারণে বৃদ্ধাবস্তায় পিতামাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় নিতে হয়। তবে সবাই সেখানে যেতে পারে না। যাদের অর্থ আছে তারাই যায়। অন্যান্যরা বৃদ্ধকালে একাকি ঘরেই থাকে। বৃদ্ধরা তো হাঁটাচলা করতে পারলে রান্নাকরে খেতে পারে। যারা পারে না - তাদের অনেকে ঘরেই মরে পড়ে থাকে।

জনসংখ্যা ও শিশুর ঘাটতির জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক হাই স্কুল্গুলিও যখন বন্ধ হয়ে যাচ্ছে – তখনও সরকার এই জটিল অবস্থার মোকাবিলা করে নি। ১৯৯০ এর দশকে জাপানে প্রচুর ল্যাংগুয়েজ স্কুল ছিল। সেগুলিতে বিদেশি ছাত্রছাত্রির অভাব ছিল না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক অবস্থাও ফুলে ফেঁপে উঠেছে। বিদেশি কিছু অবৈধ শ্রমিক দেখে সরকার তাদের বিতারণ করে দিল। ফলে শ্রমিকের অভাবে কারখানাগুলি চীনে ব্যাপক পূজিবিনিয়োগ করতে থাকে। চীনারা সে সুযোগ কাজে লাগায়। অনেকের মতে জাপান দেশটিই একটি ব্রান্ড নেইম। সেই জাপানের জায়ান্ট কারখানাগুলি থেকে তৃতীয় শ্রেণীর ফ্যাকটরিগুলিও চীনে বিনিয়োগ করতে শুরু করে। বিশ্ববিখ্যাত ক্যামেরা, টিভি, কম্পিউটার ও অন্যান্য ইলেকট্রনিকস ইন্ডাস্ট্রিগুলি বিদেশে তাদের ব্রান্ড নেইমও বিক্রয় করে দিল। তার সুফল পেল চীন। জাপানের কাঁধে ভর করে বিশ্বের দ্বিতীয় অর্থনৈতিক জায়ান্টকে নক আউট করে চীন সে স্থানে এল।

জাপানি কোম্পানিগুলি যখন চীন থেকে তাদের প্রোডাক্টস এনে বাজারে ছাড়ল। তখন জাপানিদের পকেটে সেগুলি কিনার পয়সা নেই।
জাপানের গ্রাম্য শহরগুলির দোকান পাট অধিকাংশ বন্ধ হয়ে গেল।
শিশুর সংখ্যা কমে গেল এবং বৃদ্ধের সংখ্যা বেড়ে গেল।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ থেকে দেশটিকে গড়ে নিয়ে যখন জাপান বিশ্ববাসিকে তাক লাগিয়ে দিল। তখন পশ্চিমা দেশের গবেষকগণ জাপানকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেছে।

কথায় অনেক কথা আসে। প্রবাসে থেকে এসব কথা বলা ঠিক না। তবে লক্ষ করেছি যে জাপান সরকারের কিছু ভুল ভ্রান্তির জন্যই দেশটির অর্থনৈতিক অবনতি হয়েছে।

গতকাল বাংলা পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে যে জাপান বাংলাদেশ সহ আরো অনেক দেশ থেকে শ্রমিক আনবে। সুবুদ্ধির উদয় হয়েছে বলতে হবে। তবে আমি শত ভাগ এ কথায় আশ্বাস রাখতে পারছি না। জাপানীদের মধ্যে বর্ণপ্রীতির দুর্বলতা আদিকাল থেকেই। যে সকল দেশ থেকে শ্রমিক আনবে পত্রিকাটি উল্লেখ করেছে – সে সকল দেশের মধ্যে বাংলাদেশ নবম স্থানে। বর্ণপ্রীতি ভুলে দক্ষ শ্রমিক দেশটিতে আসুক মনে প্রাণে কামনা করি।

সর্বশেষে একটি কথা না বলে পারছি না। জাপান যদি পশ্চিমা বিশ্ব থেকে ধারণা নিত তাহলে এতটা অবনতি হত না। বৃটেন থেকে যদি কিছু ধারণা নিত – তাহলে হয়তো জাপান এখনো অর্থনৈতিক ক্ষমতাধর দেশ হিসাবে দ্বিতীয় স্থানেই থাকত।

৩০ আগষ্ট ২০১৯

poem কবিতা

2019-08-31 19:28:21 | Weblog
Life is a dream
Arshad Ullah

It seems to me...
Life is short, time is a thief,
I just cry and cry and I see...
Time is guilty of taking our lives.
Always It seems to me.
The day before yesterday,
I was born, it's just a miracle,
It's just yesterday, I grew up...
It seems to me,
It's quite understandable,
From our lives ...
Time takes everything,
I just scream...
Life is nothing but a dream,
It's nothing, time is everything,
It seems to me.
28 August 2019

poem কবিতা

2019-08-24 19:12:56 | Weblog
ক্লিওপেট্রা

ক্ষমতার শিরোমণি রূপবতী ক্লিওপেট্রা
চতুর্দিকে পাগলের দল,
মিশর কন্যা রূপের বন্যা বদনে লেপটা
রূপ দেখে অন্ধ সকল।
যায় দেশ রসাতলে লোটপাট চারিদিকে
নিবীর্য যুবারা অচেতন,
হত্যা ধর্ষণ - নিপীড়ন ক্রন্দন ধুকে ধুকে
দুর্নীতি ঘুষ হয়না দমন।
এমন এক সুযোগে - পেয়ে তারে বাগে
জুলিয়াস সিজারের হুংকার,
যুদ্ধ পতনে ক্লিওপেট্রা সিজার অনুরাগে
ইতিহাসে লেখা - পরীষ্কার।
২৪ আগষ্ট, ২০১৯

poem কবিতা

2019-08-22 12:25:17 | Weblog
ব্যর্থ সব আশা প্রত্যাশা যেন
হতাশার অসীম যন্ত্রণা,
আনবিক চুল্লির তীব্র বিক্রিয়া
প্লটোনিয়াম ফিসিয়ামের...
তেজস্ক্রিয় তপ্ত কণা।

দিন গুনি বুকে নিয়ে জ্বলন্ত চুল্লি,
দৃষ্টিতে স্ক্যান করে দেখি...
এগুবার সঠিক পথ রয়েছে কি না,
প্রত্যক্ষ করি আসল মেকি।

আশা রাখি - হয়তো পাব কোন ক্ষণে
সূর্যের তীব্র আলোতে সত্যের ঠিকানা,
হেঁটে যাব দুর্বার পথে হতাশা মুক্ত রণে,
মুক্তির আলো যেখানে - সুখের নিশানা।
২২ আগষ্ট, ২০১৯

poem কবিতা

2019-08-21 12:29:15 | Weblog
এসেছে নিরবে নিবিড়ে নব রূপে রঙে
জেগেছে আবার - দীঘি নদী জলাতে
চুপিচুপি উঁকি দিয়ে মৌনী ঢঙ্গে
লাজ রাঙা রূপসী তরুণীর মত
যৌবনের ডাকে- মৌসুমি চেতনায়,
বহু রঙ শাপলা ফুল ভোর প্রভাতে।

পৃথিবীর জন্ম লগ্নে প্রভুর অবদানে
মৌসুমি কত ফুল যেদিকে তাকাই
শিউলী কামিনী বকুল চামেলি জুঁই
হরিত ঘাসে - হিরক টুকরো সহস্র
শিশিরের জ্যোতি প্রভাত কিরণে!
২১ আগষ্ট, ২০১৯

আমার ভাবনাগুলি

2019-08-20 10:28:06 | Weblog
মনের ভাবনাগুলি সাদা মেঘের মত
বায়ুস্রোতে ভাসে আকাশে,
আমার জীবনও ঠিক তেমন-
বিবর্ণ মলিন যত বিষণ্ণ হরিণ-
বৃথা দৌড়ায় মরু তিয়াসে।
একে একে কত ভাবনার কাল রাত
নির্ঘুম যাতনা হয়ে আসে;
তবু রঙধনু দেখি প্রভাতের আকাশে
স্বপ্নে তুমি যখন থাকো পাশে।
২০ আগষ্ট, ২০১৯